পরিচিতি
যুগ্ম আহ্বায়ক, নির্বাহী পর্ষদের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের সম্পাদক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) , দশ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী, নোয়াখালী-২
সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া
যুগ্ম আহ্বায়ক, নির্বাহী পর্ষদের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সেলের সম্পাদক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) , দশ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী, নোয়াখালী-২
জন্ম ও বেড়ে ওঠাঃ
আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার পরিকোট গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারে। শৈশব ও কৈশোরের সোনালী দিনগুলো কেটেছে এই জনপদেই, তাই এখানকার মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার নাড়ির টান। সেনবাগের গ্রাম্য পথ ধরে হেঁটেই আমার শিক্ষাজীবনের সূচনা এবং এখান থেকেই আমার মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষা লাভ।
শিক্ষা ও গবেষণা:
উচ্চশিক্ষার সোপান বেয়ে চট্টগ্রাম সিটি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠ চুকিয়ে আমি জ্ঞানের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাই। সেখানে কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করি। জ্ঞানচর্চা ও গবেষণাকেই আমি জীবনের অন্যতম ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছি।
আন্তর্জাতিক কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা:
শিক্ষকতা ও গবেষণার সুবাদে কাজ করেছি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ডাইজ বিশ্ববিদ্যালয় (Brandeis University) এবং বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের (Boston University) মতো বিশ্বের খ্যাতনামা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তবে কেবল শ্রেণিকক্ষেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি; আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং রবার্ট এফ. কেনেডি হিউম্যান রাইটস-এ দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করি।
রাজবন্দীদের অধিকার ও আইনি লড়াই:
আমার এই আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আমি সবসময় দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে, বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বন্দীদশায় তাঁর আইনি অধিকার, চিকিৎসার অধিকার ও মুক্তির দাবিতে আমি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরলস অ্যাডভোকেসি করেছি। একইভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির রায় স্থগিত ও মুক্তির দাবিতেও আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে আমি ছিলাম সোচ্চার।
জুলাই বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা:
: জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার দীর্ঘ এক দশকের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, প্রভাবশালী গণমাধ্যম এবং মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করেছি। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের আন্তর্জাতিক বিচার নিশ্চিত করা এবং প্রবাসীদের মধ্যে ন্যায়বিচারের আন্দোলনকে সুসংহত করার লক্ষ্যে আমি প্রতিষ্ঠা করি আন্তর্জাতিক মঞ্চ ‘ডায়াসপোরা ফর জাস্টিস’।
রাজনৈতিক দর্শন ও আগামীর লক্ষ্য:
গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে আমি দেশে ফিরে আসি। বর্তমানে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছি। আমার কাছে রাজনীতি কোনো ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর হাতিয়ার। আমার অর্জিত জ্ঞান, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং সততাকে পুঁজি করে আমি নোয়াখালী-২ আসনকে একটি শিক্ষিত, নিরাপদ, কর্মমুখী ও মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি আপনাদের সমর্থন ও দোয়াপ্রার্থী।
বিচার এখন অর্থের বিনিময়ে কেনা-বেচা হয়। টাকা যার আছে আইন তার পক্ষে- এই অরাজকতা ভাঙতে হবে। ঘুষ আর অনৈতিক সুপারিশের সংস্কৃতি উপড়ে ফেলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সময় এখনই।
তরুণরা চরম হতাশায় নিমজ্জিত, চাকরির পেছনে ছুটতে ছুটতে জুতার তলা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে, তবু কোনো সম্মানজনক চাকরি হচ্ছে না। সরকারকে আরও সক্রিয় ও কৌশলী হয়ে তাদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
নেতার কাজ হুকুম দেওয়া নয়, জনগণের বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ানো। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে যারা এতদিন আপনাদের দমিয়ে রেখেছে, তাদের দিন শেষ। এখন সময় জনতার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।